'দুর্নাম’, ‘দুর্নিবার’ শব্দ দুটি মূর্ধণ্য ‘ণ’ ব্যবহৃত হয়নি কেন?

Updated: 1 year ago
  • সমাসবদ্ধ শব্দ বলে
  • দেশি শব্দ বলে
  • তৎসম শব্দ বলে
  • বিদেশি শব্দ বলে
2.7k
ব্যাখ্যাঃ

বাংলা ব্যাকরণে 'ণ-ত্ব বিধান' অনুযায়ী, সাধারণত ঋ, র, ষ-এর পর তৎসম শব্দে দন্ত্য 'ন' মূর্ধণ্য 'ণ'-এ পরিবর্তিত হয়। তবে এর কিছু ব্যতিক্রম আছে। এই ব্যতিক্রমগুলির মধ্যে অন্যতম হলো, সমাসবদ্ধ শব্দে 'ণ-ত্ব বিধান' প্রযোজ্য হয় না। অর্থাৎ, দুটি বা ততোধিক পদ মিলে সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হলে সেখানে সাধারণত 'ণ' ব্যবহার করা হয় না, যদি না মূল শব্দটি এককভাবে 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম অনুসরণ করে।

‘দুর্নাম’ শব্দটি ‘দুর’ (উপসর্গ) + ‘নাম’ এই দুটি পদের সমন্বয়ে গঠিত। এটি একটি সমাসবদ্ধ পদ (প্রাদি সমাসের অন্তর্ভুক্ত)। তেমনি, ‘দুর্নিবার’ শব্দটি ‘দুর’ (উপসর্গ) + ‘নিবার’ এই দুটি পদের সমন্বয়ে গঠিত। এটিও একটি সমাসবদ্ধ পদ। যেহেতু দুটি শব্দই সমাসবদ্ধ পদ, তাই এখানে ঋ, র, ষ-এর পর 'ণ'-এর নিয়মটি কার্যকর হয় না এবং দন্ত্য 'ন' অপরিবর্তিত থাকে।

অতএব, ‘দুর্নাম’ ও ‘দুর্নিবার’ শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ পদ হওয়ার কারণে মূর্ধণ্য ‘ণ’ ব্যবহৃত হয়নি।

  • ১. সমাসবদ্ধ শব্দ বলে: এটিই সঠিক কারণ। সমাসবদ্ধ পদে 'ণ-ত্ব বিধান' কার্যকর হয় না।
  • ২. দেশি শব্দ বলে: ‘দুর্নাম’ ও ‘দুর্নিবার’ শব্দ দুটি দেশি শব্দ নয়, এগুলো সংস্কৃত মূল থেকে আগত তৎসম শব্দ। দেশি শব্দে এমনিতেই 'ণ-ত্ব বিধান' প্রযোজ্য নয়, কিন্তু এখানে মূল কারণ এটি নয়।
  • ৩. তৎসম শব্দ বলে: শব্দ দুটি তৎসম হলেও, তৎসম শব্দেই সাধারণত 'ণ-ত্ব বিধান' প্রযোজ্য হয়। প্রশ্নটি 'ণ' ব্যবহৃত না হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে, তাই 'তৎসম শব্দ বলে' উত্তরটি ভুল।
  • ৪. বিদেশি শব্দ বলে: ‘দুর্নাম’ ও ‘দুর্নিবার’ বিদেশি শব্দ নয়, এগুলো সংস্কৃত মূল থেকে আগত। বিদেশি শব্দে 'ণ-ত্ব বিধান' প্রযোজ্য নয়, কিন্তু এখানে মূল কারণ এটি নয়।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago

১. ণত্ব বিধান
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই। সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য- ন-এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।
ণ ব্যবহারের নিয়ম
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন – ঘণ্টা, লণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন – ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি। ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন – কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, v.
অর্পণ (র্ + প্ + অ+ণ), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ণ)। এরূপ – রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি ৷
-
৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়

চাণক্য মাণিক্য গণ
বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা ।
কল্যাণ শোণিত মণি
স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা ।
আপণ লাবণ্য বাণী
নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ ৷
চিক্কণ নিক্কণ তূণ
কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ ৷


সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন – ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক। ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়। যেমন – অন্ত,গ্রন্থ, ক্রন্দন।

২. ষ-ত্ব বিধান
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। যে-সব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’–এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।
ষ ব্যবহারের নিয়ম
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন— ভবিষ্যৎ (ত্ + অ + ব্ + ই + ) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন – অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি। প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান >
৩.‘ঋ’ এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
৪. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বৰ্ষণ
৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা : পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা পুরস্কার।
৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা : কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন-ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি ।
জ্ঞাতব্য
ক. আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে। যেমন— জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
খ. সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

Related Question

View All
  • দেশি
  • তৎসম
  • বিদেশি
  • তদ্ভব
10
Updated: 6 days ago
  • মুমূর্ষু
  • ভাষা
  • প্রতিষ্ঠান
  • কষ্ট
9
Updated: 1 month ago
  • শ্রাবণ
  • হরিণ
  • নিপুণ
  • ঘন্টা
36
Updated: 3 months ago
  • অনুষঙ্গ
  • অনষাঙ্গ
  • অনুসঙ্গ
  • অনুসাঙ্গ
74
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই